আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দরবৃদ্ধি অব্যাহত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডাটা সেন্টারগুলোয় তামার চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। উচ্চ বৈদ্যুতিক পরিবাহী সক্ষমতার কারণে পাওয়ার গ্রিড, ডাটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোয় অপরিহার্য তামার তার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডাটা সেন্টারগুলোয় তামার চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। উচ্চ বৈদ্যুতিক পরিবাহী সক্ষমতার কারণে পাওয়ার গ্রিড, ডাটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোয় অপরিহার্য তামার তার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরবরাহ কমেছে ধাতব পণ্যটির। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম টনপ্রতি ১২ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাসের সরবরাহ চুক্তিতে গত শুক্রবার বেচাকেনার এক পর্যায়ে তামার দাম রেকর্ড ১১ হাজার ৯৫২ ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে দশমিক ৬ শতাংশ কমে তা টনপ্রতি ১১ হাজার ৭৯৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। এছাড়া গত সপ্তাহে ধাতব পণ্যটির সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তামার দাম ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালের পর সর্বাধিক সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে ধাতব পণ্যটির বাজারে। বেঞ্চমার্ক মিনারেল ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক দান দে জঙ্গ বলেন, ‘চাহিদা বৃদ্ধির কারণে তামাভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ধাতব পণ্যটির দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।’

কানাডার স্প্রট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ২০২৪ সালের মধ্যভাগে বিশ্বের প্রথম ফিজিক্যাল এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড কপার ফান্ড চালু করেছে। এ ফান্ডে প্রায় ১০ হাজার টন তামা রয়েছে এবং চলতি বছরে এর ইউনিটমূল্য প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৪ কানাডিয়ান ডলারে পৌঁছেছে।

রয়টার্সের সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্লেষক জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছরে তামার বাজারে ঘাটতি হবে ১ লাখ ২৪ হাজার টন। আগামী বছর তা পৌঁছতে পারে দেড় লাখ টনে।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককুয়ারির অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা হতে পারে ২ কোটি ৭০ লাখ টন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময় বিশ্বের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনের চাহিদা বাড়বে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া চীনের বাইরে আগামী বছর ধাতব পণ্যটির চাহিদা ৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ, মার্কিন কমেক্স ও সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে তামার মোট মজুদ চলতি বছর ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৬১ হাজার ২১ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কমেক্সে মজুদের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৪ লাখ ৫ হাজার ৭৮২ টন, যা মোট এক্সচেঞ্জ স্টকের ৬১ শতাংশ। ২০২৫ সালের শুরুতে এটি ছিল ২০ শতাংশ। বিএমআইয়ের দে জঙ্গ বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ সরবরাহ থাকায় অন্যান্য বাজারে মজুদ কমে এসেছে।’

আরও